বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক সময় কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এই দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ‘বাংলা শস্য বীমা যোজনা’ প্রকল্প প্রচলন করেছে। “Bangla Shasya Bima Yojana” তে আউস ও আমন ধানের জন্য খরিফ ২০২০ মরসুমে অনলাইন আবেদন চলছে ।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং এগ্রিকালচারাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড এর মিলিত উদ্যোগে খরিফ ২০২০ মরসুমে প্রযুক্তি নির্ভর বীমা প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গে রূপায়িত হচ্ছে ।
২০২০-২১ আর্থিক বৎসরে এই আবেদন চলবে এই আবেদন চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ।
এই প্রকল্পের আওতায় ফসলের ক্ষতির মূল্যায়ন , উপগ্রহ চিত্র এবং আবহাওয়া তথ্যরের উপর ভিত্তি করে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হবে।
আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারি প্রকল্প কৃষক বন্ধু ,উপকৃত ৭২ লক্ষ কৃষক
প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ বীমাকৃত কৃষিকের ব্যাঙ্ক অক্কোউন্টে অতিসত্তর সরাসরি প্রদান করা হবে।
বীমাকৃত ফসল : আমন ধান ও আউস ধান। (এছাড়াও বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বিভিন্ন অঞ্চলের ফসল। যেমন – গম, মুসুর, সরিষা, তিল, চীনাবাদাম ইত্যাদি )
কারা যোগ্য হবেন এই কৃষক বীমা প্রকল্পে
সমস্ত ধরণের কৃষক যারা বর্তমান মরসুমে বিজ্ঞাপিত অঞ্চলে ফসল চাষ করছেন । বা করবেন তার সকলেই খরিফ ২০২০ মরসুমে বাংলা শস্য বীমার আওতাভুক্ত হতে পারবেন।
- কৃষককে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- জমির মালিক/ভাগচাষী সকলেই বাংলা শস্য বিমা প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
- এই স্কিম অনুসারে আবেদনকারীরা ফসলের ক্ষতির সম্মুখীন হলে কেবল বীমা কভারেজ পাবেন বলে সুবিধাভোগীকে কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতির সঠিক প্রমাণ এবং জমির দলিল সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
বাংলা শস্য বীমাতে কি কি ধরণের ক্ষতিপূরণ পাবেন ?
১. রোপন / বপন জনিত বিফলতা : খরা বা প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত কারণে যদি বিজ্ঞাপিত এলাকায় আমন ধান ৭৫ % অধিক জায়গায় রোপন বা বপন জনিত বিফলতার সমুক্ষিন হয় , তবে ই এলাকায় সকল বীমাকৃত কৃষক তাদের বীমা রাশির সর্বাধিক ২৫ % ক্ষতিপূরণ হিসেবেব পাবেন ।এবং সেক্ষেত্রে ওই মুরসুমে আমন ধানের বীমা সুরক্ষা তখনই শেষ হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন : জনধন অ্যাকাউন্টে বাড়তি সুবিধা , বড় ঘোষণা কেন্দ্রের।
৩.অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ : প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিজ্ঞাপিত অঞ্চলে ৭৫ % অধিক জায়গায় আমন ধানের ক্ষতি হলে কৃষকেরা অন্তর্বর্তীকালীন সর্বাধিক ৫০ % ক্ষতিপূরণ পাবেন । সেক্ষেত্রে ওই মুরসুমে আমন ধানের বীমা সুরক্ষা তখনই শেষ হয়ে যাবে।
৩. মরসুম শেষের ক্ষতিপূরণ : আধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মরসুম শেষে চটজলদি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও প্রদান করবে।

বাংলা ফসল বীমা করার পদ্ধতি :
এই বীমা অনলাইন এবং অফলাইনে আবেদন করা যাবে।
ক ) অমাণ ধানের ক্ষেত্রে , খরিফ ২০১৯ মুরসুমে বাংলা শস্য বীমা বা কৃষক বন্ধু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত কৃষকদের বীমা সরাসরি হয়ে যাবে।
খ) আউস ধানের ক্ষেত্রে , খরিফ ২০১৯ মুরসুমে বাংলা শস্য বীমায় অন্তর্ভুক্ত কৃষকদের সরাসরি বীমাr আওয়তায় চলে আসবেন।
- বাংলার যুব সাথী প্রকল্প: বেকার যুবকদের জন্য রাজ্য সরকারের নতুন বড় উদ্যোগ
- ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স! এখন মোবাইলেই আবেদন করুন – West Bengal Trade Licence Apply 2025
- শ্রমশ্রী প্রকল্প : পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নতুন উদ্যোগ
বিঃ দ্রঃ – ক এবং খ উল্লেখিত কৃষকদের বীমা শংসাপত্র অনলাইন বাংলা শস্য বীমা পোর্টালে উপলব্ধ হবে।
গ) অন্যান্য কৃষকেরা ( ক এবং খ ব্যাতিত ) বীমা করার জন্য ১৮০০-৫৭২-০২৫৮ টোল ফ্রী নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন বীমা কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে।
অথবা কৃষি দপ্তরের সহায়তায় মোবাইল এপ্লিকেশন এর মাধ্যমে সুম্পূর্ণ বিনামূল্যে শস্য বীমা করতে পারবেন। অনলাইন এর মাধ্যমে আপনারা সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গের সকলের জন্য পেনশন ‘জয় বাংলা’ – উপকৃত হবেন ৬০ লক্ষ মানুষ।
Bangla Shasya Bima Yojana এর অফলাইন আবেদন পদ্ধতি
অফলাইনে আবেদনের জন্য এই ফর্ম কৃষকরা নিকটবর্তী গ্রাম পঞ্চায়েত, কিষাণ মান্ডি বা ব্লক অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।
কৃষকদের নিম্নলিখিত নথির জমা কপি দিতে হবে।
১. ভোটার আই ডি কার্ড।
২. নিজের নাম ব্যাংকার পাস বই (ছবি সমেত )
৩. খতিয়ান / পরচা (সাম্প্রতিকতম ) বা পাট্টা বা দলিল।
৪. নিজের নামে জমি না থাকেল চাষের জমির আয়তন সমেত শংসাপত্র ( নির্দিষ্ট ফর্মে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কর্তৃক )
বিশদ তথ্যের জন্য, (ADA) অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর অফ এগ্রিকালচার অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন বা টোল ফ্রি নাম্বারে ১৮০০-১০৩-১১০০ কল করতে পারেন।
সরকারের এই উদ্যোগে বন্যা, খরায় ফসলের ক্ষতির চিন্তা থেকে কৃষক থাকবেন নিশ্চিন্ত।
বি: দ্রঃ- শুধুমাত্র আলু এবং আখ এই দুটি বাণিজ্যিক ফসলের জন্য কৃষককে সর্বাধিক ৪.৮৫% প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে । অবশিষ্ট প্রিমিয়াম রাজ্য সরকার বহন করবে।
আমাদের টেলিগ্রাম যুক্ত হতে নিচের ছবি তে ক্লিক করুন।

অন্যান্য পোস্ট গুলি পড়ুন
- বাংলার যুব সাথী প্রকল্প: বেকার যুবকদের জন্য রাজ্য সরকারের নতুন বড় উদ্যোগ
- ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স! এখন মোবাইলেই আবেদন করুন – West Bengal Trade Licence Apply 2025
- শ্রমশ্রী প্রকল্প : পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নতুন উদ্যোগ
- অ্যাপের মাধমে বাংলা আবাস যোজনা লিস্ট ২০২৪ – লাগবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও তথ্য , Bangla abas yojana list 2024
আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প কী এবং আপনার নাম আছে কি ?